Bangla blog

Recently I visited an amazing new bangla blog called http://amarblog.com/
It is a wonderful community for Bengali speaking people. you can write anything in this blog. This blog is totally moderation free, which makes it an exceptional one. visit the new bangla blog .

অবসরের অসতর্কতায়

সূর্য দিনের যাত্রা শুরুর অনেক পরে
আমার ঘুম ভাঙে।
বিরতিহীন ব্যস্ত দিনের শুরু
বিড়ালের মত রাজকীয় আড়মোড়া ভেঙে;
আলসেমি কাটিয়ে পুকুরের জলে সাঁতার,
নাশতার টেবিলে টুকটাক সাংসারিক আলাপ
শেষে মাসকাবারি কামলা দিতে দিই ছুট।
কাজের ফাঁকে চায়ের কাপে চুমুক,
মনিটরে সতর্ক চোখ, কিবোর্ডে আঙুলের নাচন,
ফাঁকে ফাঁকে মুঠোফোনে ফরমায়েশি আলাপচারিতা,
ন’টা-পাঁচটা’র বাধ্যবাধ্যকতা শেষে
ঢু মেরে যাওয়া প্রতিদিনকার আড্ডায়;
তামাকের ধোঁয়ায় উড়ে যায় বিচ্ছিন্ন আবেগ।
তারপর একই পথে বাড়ী ফেরা, মায়ের খোঁজখবর;
এরপর আন্তর্জালের ঘরে হাসি কান্না সুখ দূঃখের বিনিময়
শেষে ক্লান্ত দু’চোখ যখন ধৈর্য্যের শেষ সীমায়,
ঢুলু ঢুলু চোখে মশারি খাটিয়েই গা এলিয়ে দেয়া বিছানার আদরে।

দিনের ব্যস্ততার চক্রে এক সেকেন্ডও অবসর খুঁজি না,
পাছে মুহুর্তের অবসরের অসতর্কতায় তুমি
ঢুকে পড়ো মনের ঘরে!

নোয়াখালী
২৭ মার্চ, ২০০৮

সে আর আমি

সে আর আমি- একসাথে চলি
সে আর আমি- একসাথে হাসি
সে আর আমি- একসাথে কাঁদি
সে আর আমি- একসাথে জ্বলি।

সে আর আমি- পর্দা সরাই
সে আর আমি- ব্যবধান কমাই
সে আর আমি- খুব কাছাকাছি
সে আর আমি- দুই ধনুক ব্যবধানে দাঁড়াই

সে আর আমি- তবু অচেনা!

১৬ মার্চ ২০০৮

কে হে তুমি বালিকা

রাস্তায় দাঁড়িয়ে আনমনে
তাকাও এদিক ওদিক।
যেন অপেক্ষমান তীব্র প্রতীক্ষায়,
কোন যুবকের বাহুডোরে
সমর্পণের আকাঙ্খায় ব্যাকুল;
রোদের তীব্রতায় ভ্রুকুটি হেনে
দৃঢ়তায় দাঁড়িয়ে আছো।

বখাটের অযাচিত আক্রমনের নেই ভয়,
রাস্তায় হাজার জনতার ভীড়েও অসচেতন,
খেয়াল নেই কে এসে আড়চোখে চেয়ে যায়।
অস্থিরতা কুরে কুরে খায় তোমাকে
এক মিনিট দু’মিনিট করে ঘন্টাধ্বনি বাজলো প্রায়।

যুবক কি আজ আটকা পড়েছে
পথের অনিশ্চয়তায়?
যুবক কি ভুলেছে প্রতীক্ষার মাসগুলো শেষে মিলনের দিনক্ষণ?
ভীষণ প্রতীক্ষায় আনমনে দাঁড়িয়ে আছো;
কুমারী সলাজ চোখের গভীরে
অচেনা যুবকের প্রতি প্রগাঢ় মায়ার ছায়া।

জানি ভুল করে ধরা পড়ে গেলে চোরা চাহনি
কুঁকড়ে উঠবে ভীষণ।
লজ্জাবতীর চেয়েও দ্রুততায় গুটিয়ে যাবে,
ঢেকে ঢুকে রাখবে কোমল সৌন্দর্যের আলোকিত বিচ্ছুরণ।

তোমার চোখের ছায়ায় টের পাই,
আকাঙ্খিত সেই যুবকের প্রতি ইস্পাত কঠিন বিশ্বাস;
যুবক আসবেই নিশ্চিত জেনে দাঁড়িয়ে থাকো স্থির।

তবু নির্লজ্জ মন জিজ্ঞেস করে বারে বারে–
কে হে তুমি বালিকা?
ছুঁয়ে যাও আলতো করে!

নোয়াখালী
১৪ মার্চ ২০০৮

নাকফুল

গত ঈদে সালোয়ার কামিজ কিনে দিতে চাইলাম,
নিলে না;
ব্রেসলেট দিতে চাইলাম
তাও না।
শেষমেষ নিলে একজোড়া সাদা পাথরের কানের দুল,
নকল হীরের দ্যূতি ছড়ানো;
খুব বেশি দামী কিছু নয়, একদিনের রোজগার।

ইচ্ছে ছিলো খুব শীঘ্রই কিনে দেবো
আশ্চর্য সুন্দর একটি নাকফুল
তোমার পছন্দের,
হোক না যতই দামী,
হোক না কয়েক মাসের বেতন সমান,
হোক না দূর্লভ;
এ দোকান সে দোকান ঘুরে
সময় নিয়ে ঠিকই খুঁজে বের করতাম।

ইচ্ছে ছিলো খুব শীঘ্রই তোমাকে কিনে দেবো
আশ্চর্য সুন্দর একটি নাকফুল।
তোমাকে নাকফুল কিনে দেয়া আর হলোনা…

নোয়াখালী
১২ মার্চ ২০০৮

নিঃসঙ্গতায় ছুঁই

করুণাময় নই
দয়াময় নই
নই প্রেমিক
নই শাস্তিদাতা।

সর্বজ্ঞাতা নই
সর্বশ্রোতা নই
নই রক্ষাকারী
নই শান্তিদাতা।

তোমায় রুপে ছুঁই না
অরুপে ছুঁই না
সাকারে ছুঁই না
নিরাকারে ছুঁই না
তোমায় কেবল নিঃসঙ্গতায় ছুঁই।

হে পরম নিঃসঙ্গ,
তোমায় কেবল নিঃসঙ্গতায় ছুঁই…

৩ মার্চ ২০০৮

নিভৃত আকাশে

প্রভাকরের বিকীর্ণ আলোয় উজ্জ্বল পৃথিবী,
নিস্তরঙ্গ পুকুরের ফ্রেমে আবদ্ধ নীলাকাশ,
বাসন্তী হাওয়ায় উচ্ছল গাছগাছালি,
- এই সব নৈসর্গিক স্বাভাবিকতায়
তোমার আগমন হঠাৎ করেই।

সাইমুম ঝড়ের মত তুমি এলে- দূর্নিবার – অদম্য;
সাধ্য কি আমার তোমাকে রুখার!

তুমি এলে এবং আমার সমস্ত কিছু পাল্টে গ্যালো এক লহমায়।
আগের মত চলতে পারি না,
আগের মত ভাবতে পারি না।

আমার তন্দ্রাচ্ছন্ন চেতনা তোমার স্পর্শে প্রাণ ফিরে পায়;
আমার কাব্যের আকাশে তুমি যেন অবাক সূর্যোদয়!

আমার বোধের আলো আঁধারীতে এতদিন
মাতৃগর্ভে ঘুমন্ত শিশুর মত ছিলো যে কবিতারা,
তোমার সযত্ন উৎসাহে তারা ভূমিষ্ট হয় আমার লেখনীতে।
আমার কাব্য পূর্ণতা পায় তোমার প্রেরণায়।

এত যে ওলট-পালট, এত যে পূনর্নিমান আমার জীবনে যে তোমার জন্য,
সে তুমি জানোই না – তুমিই এর কারণ।
তবুও তুমি আছো ধ্রুবতারার মত বিরাজমান
আমার নিভৃত আকাশে।।

নোয়াখালী
২৬.২.১৯৯৭

————————————————-
* ড্রয়ার ঘাটতে গিয়ে আজ অনেক বছর আগের দিন তারিখসহ কিছু লেখা পেলাম। এই লেখাটি তারই একটি। তখন এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়তাম।

জানালার পাশে

পর্দা উঠালেই সবুজ গাছের সারি,
নারিকেল সুপারি থোকা থোকা;
কচি লাউয়ের ডগায়
কুমড়োর ফুলে পতঙ্গের উড়াউড়ি।

চেনা অচেনা ঘাসফুলেদের সমারোহে
সতেজ হয়ে উঠে সদ্য ঘুম ভাঙ্গা নিস্তেজ চোখ।

পাশেই ছোট্ট পুকুরে মাছেদের ক্লান্তিহীন ছুটোছুটি,
কাক চক্ষু জলে লাল পদ্মের হাসি;
কখনো ত্রস্ত প্রজাপতি এসে ছুঁয়ে যায়
বর্ণীল আলোকোচ্ছটায়।
নরম রোদের আদরে ভুলে যাওয়া
শীতার্ত রাতের স্মৃতি।

এইসব যান্ত্রিক চাওয়া পাওয়া
এইসব ভোগের উচ্ছিষ্টের ভীড়ে
স্বপ্নহীন দু’চোখ যখন ক্লান্ত হয়,
জানালা খুলে দিই
পাখির চোখে স্বপ্ন আঁকি।

ভালো আছি, বেশ ভালো আছি…

নোয়াখালী
৭ মার্চ, ২০০৮

দৃষ্টি


দৃষ্টিতে তার বিষ ছিলো,
আমি পান করেছি, খুন হয়েছি।

তবুও আমার মৃত চোখে
শুধুই তোমার স্বপ্ন দেখি
রাত্রি দিনে জগৎ ভুলে
তোমার ধ্যানেই মগ্ন থাকি।

ধেয়ে আসছে তোমার দিকে


উ হু! এরকম সাপের মত পেঁচিও না;
চুপচাপ দাঁড়াও, ঠিক মৌন সন্যাসীর মত।
তোমার চোখযুগল এখনো তিরতির করে কাঁপছে।
চোখ বন্ধ কর, স্থির হও;
চিবুকটা তুলে ধরো সামান্য।
হু, এবার ঠিক আছে;
লক্ষ্ণী মেয়ের মতো আচরণ!
এভাবেই থেকো আরো কিছুক্ষণ।
জানোই তো, পালাতে পারবেনা,
ঠেকাবার কোন উপায় নেই-
সহস্র চুম্বন ধেয়ে আসছে তোমার দিকে…

নোয়াখালী
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৮